সাক্ষ্য কাকে বলে? সাক্ষ্য কত প্রকার ও কি কি?
প্রশ্নঃ সাক্ষ্য কাকে বলে? সাক্ষ্য কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ সাক্ষ্য বলতে কোন বিতর্কিত বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় কিংবা বিচার্য
বিষয় প্রমাণের জন্য উপস্থাপিত কোন বিবৃতি বা দলিলকে বুঝায়। সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারা।
সাক্ষ্য দুই প্রকার। যথা ১) মৌখিক সাক্ষ্য, ২) দলিলী সাক্ষ্য।
মৌখিক সাক্ষ্যঃ সাক্ষ্য আইনের ৫৯
ও ৬০ ধারা মতে কোন বিষয়বস্তু ব্যতীত অন্য যে কোন বিষয় মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ
করা যায়। মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে অর্থাৎ সাক্ষী যা দেখেছে, সাক্ষী যা
শুনেছে, সাক্ষী যা উপলব্ধি করেছে, সে সংক্রান্ত মৌখিক ভাষ্য প্রদান করাই মৌখিক সাক্ষ্য।
দলিলী সাক্ষ্যঃ প্রাসঙ্গিক বিষয় বা বিচার্য বিষয় মৌখিক সাক্ষী ব্যতিরেকে
দলিলী বিষয়বস্তু দ্বারা প্রমাণ করা যায়। উহাই দলিলী সাক্ষ্য।
সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা।
দলিলী সাক্ষ্য দুই প্রকার। যথা ১) প্রাথমিক সাক্ষ্য, ২) মাধ্যমিক
সাক্ষ্য।
প্রাথমিক সাক্ষ্যঃ সাক্ষ্য আইনের ৬২
ধারা মতে মূল দলিল সরাসরি আদালতে হাজির করাকে প্রাথমিক সাক্ষ্য বলে।
মাধ্যমিক সাক্ষ্যঃ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা মতে মূল দলিল আদালতে হাজির
না করে অন্য কোন ভাবে এর প্রতিলিপি বা অনুলিপি উপস্থাপন করাকেই মাধ্যমিক সাক্ষ্য
বলে।
প্রশ্নঃ আদালতে কোন কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যায়? বিচার্য বিষয়
কাকে বলে?
উত্তরঃ সাক্ষ্য আইনের ৫ ধারা মতে আদালতে বিচার্য ঘটনা ও
প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যায়। কোন মামলায় বা কার্যক্রমে বিচার্য
প্রত্যেক বিষয়ের এবং সাক্ষ্য আইনের যে সকল বিষয় প্রাসঙ্গিক বলে ঘোষিত হয়েছে তাদের
অস্তিত্ব সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাবে। ইহা ভিন্ন অন্য কোন বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য
দেওয়া যাবে না।
উদাহরণঃ আব্দুল করিমের মৃত্যু ঘটাবার ইচ্ছা নিয়ে লাঠি দ্বারা প্রহার করে
তাকে হত্যা করার অপরাধে আব্দুর রহিম অভিযুক্ত হলো। আব্দুর রহিমের বিচারে বিচার্য
বিষয়গুলো নিম্নরূপ হবেঃ
আব্দুর রহিম কর্তৃক আব্দুল করিমকে লাঠি দ্বারা প্রহার করা। উক্ত প্রহারের
ফলে আব্দুর রহিম কর্তৃক আব্দুল করিমের মৃত্যু ঘটানো। আব্দুর রহিম কর্তৃক আব্দুল
করিম এর মৃত্যু ঘটাবার অভিপ্রায়।
বিচার্য বিষয়ঃ মামলা প্রমাণে যে সকল ঘটনা বা বিষয় আদালত বিবেচ্য হিসেবে
গণ্য করে তাকে বিচার্য বিষয় বলে। সাক্ষ্য আইনের ৩
ধারা।

কোন মন্তব্য নেই
কমেন্ট করুন